মীরসরাইয়ে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

১৬ এপ্রিল, ২০২৩ | ৩:১১ অপরাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিনিধি

ঈদকে ঘিরে ১০ রমজান থেকে মীরসরাইয়ে জমে উঠেছে কেনাকাটা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি উপজেলার বিভিন্ন বাজারের মার্কেটগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। শেষ মুহূর্তে পছন্দের কাপড় ফুরিয়ে যাবে, দামও থাকবে চড়া। ক্রেতাদের কাছে টানার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন ব্যবসায়ীরাও। ক্রেতাদের প্রতি লক্ষ্য রেখে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন পেশাকে সাজানো হয়েছে উপজেলার মার্কেটগুলো। দেশীয় জামদানি, টাঈাইল ও তাঁতের নতুন ডিজাইনের শাড়িসহ নারীদের বিভিন্ন পোশাক বিক্রি হচ্ছে ধুমধারাক্কা ফ্যাশনের পাশাপাশি ঐতিহ্যতেও গুরুত্বে দিচ্ছেন নারীরা। আর প্রচুর কালেকশনের পাশাপাশি দাম এখনো কম থাকায় খুশি তারা। সরেজমিনে দেখা গেছে উপজেলার বড় ব্যবসায়ীক প্রাণকেন্দ্র বারইয়ারহাটের বিভিন্ন বিপণী বিতানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর প্রতিটি মার্কেট এদের মধ্যে নারীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। ব্যবসায়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এবার ঈদের বাজরে তারা নিত্যনতুন নামের বেশকিছু নারী, শিশু ও পুরুষের কাপড় তুলেছেন দোকানে। নিত্যনতুন ডিজানের দেশি ও বিদেশি থ্রী পিচ, গাউন, শাড়ি অন্যান্য বস্ত্রসহ সবকিছু মিলছে এখানকার মার্কেটে। শহরের মানের এবং পছন্দনীয় ঈদের কাপড় স্থানীয় মার্কেটগুলোতেই পাওয়ার এখানকার ক্রেতারা ঈদের কেনাকেটায় মীরসরাইয়ের মার্কেটর উপরই নির্ভও করেছেন। এছাড়া এলাকার সার্বিক আইন-শৃংখলা পরিস্থতি ভালো থাকায় ক্রেতারা ঈদের কেনাকেটার জন্য এবার স্থানীয় মার্কেট মুখী রয়েছে। ঈদের কেনাকটার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন বাজরে বিপুলসংখ্যক ক্রেতা ভিড় জমাচ্ছেন মার্কেটগুলোতে। পেশার মানুষ তাদের সাধ ও সাধ্যর সমন্বয় ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারছে। সরেজমিনে ঘুরে সবচেয়ে বেশি ভীড় লক্ষ্য করা গেছে বারইয়ারহাট মসজিদ গলির লাকী শপিং মলে। এছাড়াও পালকি ক্লথ, শাড়িকা, রূপা ক্লথ, শাড়ি কালেকশান, মদিনা ক্লথ, মাওলানা ক্লথ উপহার ক্লথ, ফেমাস গার্মেন্টস, আল আমিন মার্কেটের , মাতৃছায়া বুটিকস , গ্রীণ টাওয়ারের , রাজকুমার, সুলতান, আল আমিন মার্কেট জমিদার মার্কেট, জামাল পুর সুপার মার্কেট , এছাড়া উপজেলার জোরারগঞ্জের যুবরাজ মার্কেট, আল-মদিনা মার্কেট আল -মদিনা শপিং সেন্টার , স্কুুল মার্কেট মিঠাছড়া শাহজাহান সুপার মার্কেট , আল আমিন ক্লথ ষ্টোর, খাজা ক্লথ ষ্টোর মীরসরাই সদরে টুকু মিয়া মার্কেট , কাশেম শপিং সেন্টার, মোজাম্মেল এন্ড আজিজুল সিটি সেন্টার, হক সুপার মার্কেট, আবুতোরাব বাজারে ভূঁইয়া ক্লথ ষ্টোর। বিক্রির দিক থেকে এবারো শীর্ষে রয়েছেন বারইয়ারহাটের ঐতিহ্যবাহী লাকী শপিং মল মিঠাছড়ার আল-আমিন ও খাজা ক্লথ ষ্টোর। কথা হয় লাকি শপিং মলে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা উপজেলার ধুম ইউনিয়নের নাহেরপুর গ্রামের গৃহবৃধূ তাহমিনা আক্তারের সাথে। তিনি বলেন, এখানে বিভিন্ন আইটেমের কালেকশান বেশি থাকায় পচন্দ করে কেনা যায়। আরেকটি পন্যের জন্য অন্য জায়গায় যাওয়ার ঝামেল নেই। জানা গেছে, এবার ঈদে মধ্যে রয়েছে ডালি, স্বপ্নের দেশে, অস্থির। মেয়েদের গাউনের মধ্যে রাজ কুমারী, ডায়মন্ড, ললিপপ, জবা। থ্রীপিচের মধ্যে গরিলা, কাবেরী, বিনয় ইত্যাদি। শাড়ির মধ্যে দেশি কাতান ছাড়াও রয়েছে জবা, জবা,বড়ভাড়ী, ক্রাস-২, নিল পদ্ম,পদ্মরাণী, রাজপরী, রাজেশ্বরী, রাজগুরু। ইন্ডিয়ার চুন্দ্রি কাতান, চায়না সিল্ক, পাকিস্তানী জর্জেট, দেশীয় মসলিন, কাতান শাড়ি, মেয়েদের কাটপিচ, লং থ্রিপিচ, রেডিমেড লংগাউন, বম্বে গাউন, টুপাট কুটি, পাকিস্থানী, ইন্ডিয়ান পাশাপাশি বম্বে, মিশরী ও দেশীয় পাঞ্জাবির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কাপড়ের পাশাপাশি জুতা, প্রসাধনীর দোকানেও বেশ ভীড় করছে ক্রেতারা। খাজা ক্লথ ষ্টোরের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সাইদুল হক বলেন, বেচা-কেনা মোটামুটি ভালো চলছে। আশা করছি ২০ রমজানের পর আরো বেশি বিক্রি হবে। অন্যদিনের তুলনায় ছুটির দিনে ভিড় বেশি হচ্ছে। মীরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে ও নিরাপত্তা দিতে পুুুলিশের কয়েকটি টিম দায়িত্ব পালন করছে বলে ওসি জানান।