পাহাড়ী ঢলে ভেঙ্গে গেছে বিকল্প সড়ক, ভোগান্তিতে হাজারও মানুষ

৯ আগস্ট, ২০২৩ | ১২:১৫ অপরাহ্ণ
রিপোর্ট

মীরসরাইয়ে ঠিকাদারের গাফিলতিতে পাহাড়ী ঢলে ভেঙ্গে গেছে নির্মাণাধীন সেতুর পাশের বিকল্প সড়ক। এতে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির তৈরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন হাজারও মানুষ। মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থেকে বাংলাবাজার বুরবুরিয়া ঘাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কের দেওয়ানপুর গ্রামের অংশে বারমাসিয়া ছড়ার উপর নির্মাণাধীণ সেতুর পাশে বিকল্প সড়ক তৈরি করা হয়। কিন্তু বিকল্প সড়কটি নীচ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা না থাকার পাশাপাশি সড়কটি নীচু হওয়ায় প্রবল বর্ষণে পাহাড়ী ঢলে ভেঙ্গে গিয়ে ছোট বড় বিভিন্ন যানবাহনসহ জনচলাচল বন্ধ হয়ে দুভোর্গে পড়েছে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীসহ হাজারো পথচারী। জানা গেছে, গত কয়েক মাস আগে এলজিইডির অধীনে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৩ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবছার কনস্ট্রাকশন। মানুষের চলাচলে ভোগান্তি কমাতে নির্মাণাধীন সেতুর পাশে তৈরি করা হয় বিকল্প সড়ক। ওই সময় নিচু জায়গায় যথাযথ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে বিকল্প সড়ক নির্মাণে অনেকেই আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন জনগণের আপত্তির তোয়াক্কা না করে নিচু জায়গাতেই দুটি পাইপ বসিয়ে বিকল্প সড়ক করেন। ফলে ওই নিচু ও খানা খন্দকে ভরা সড়ক দিয়ে মালামাল পরিবহনে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হতো। নির্মাণের পর থেকে ভোগান্তি নিয়ে পারাপার হতে পারলেও বর্তমানে পাহাড়ী ঢলে বিকল্প সড়কটি ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসময় তিনটি মোটর সাইকেল খালের পানিতে পড়ে এর আরোহীরা আহত হন। স্থানীয় বাবুল সেন নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, নির্মাণাধীন সেতুর বিকল্প সড়কটি দায়সারা ভাবে করা হয়েছে। তাই পাহাড়ি ঢলে ভেঙ্গে গেছে। এতে করে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শত শত মানুষ। স্থানীয়রা বৈদ্যুতিক খুঁটি বিছিয়ে দিয়ে জনচলাচলের ব্যবস্থা করলেও খবরও নেয়নি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থী দুর্জয়, ইমন, পপি নামের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিকল্প সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায় বৈদ্যুতিক খুঁটির সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে ভয় লাগে। অনেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবছার কনস্ট্রাকশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার এনামুল হক বলেন, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে বিকল্প সড়কটি ভেঙ্গে যায়। পানি প্রবাহ কমলে সড়কটি সংস্কার করবো। জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রেজাউল করিম মাষ্টার বলেন, বিকল্প সড়ক ভেঙ্গে মানুষের দুভোর্গের কথা শুনে তাৎক্ষনিক ইউপি সদস্যকে পাঠিয়ে জনচলাচলের ব্যবস্থা করেছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে সেতু নির্মাণ কাজের ধীরগতি ও জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে বলে তিনি জানান। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীকে পরিদর্শনের জন্য পাঠাবো। দ্রুত সময়ে বিকল্প সড়ক সংস্কারসহ সেতুর কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে।