মীরসরাইয়ে ঘন কুয়াশায় নষ্টের পথে ধানের বীজতলা

১৭ জানুয়ারি, ২০২৪ | ৩:৫১ অপরাহ্ণ
রিপোর্ট

প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গত কয়েকদিন বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কুয়াশায় বোরো ধানের আবাদ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বীজতলা নষ্ট হওয়ায় লোকসানের মধ্যে পড়েছেন চাষিরা। জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। উপজেলার ১ নম্বর করেরহাট, ২ নম্বর হিঙ্গুলী, ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ, ৮ নম্বর দুর্গাপুর, ১২ নম্বর খৈয়াছড়া, ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ও ১৬ নম্বর সাহেরখালী ইউনিয়নে এসব বীজতলা তৈরি করা হয়। কিন্তু কুয়াশা ও শীতের তীব্রতায় এসব বীজতলার অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে ১৪০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ১৫ হেক্টর বেশি। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শীত ও কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। সবুজ বীজতলা এখন ফ্যাকাশে, লালচে ও পচে নষ্ট হওয়ায় লোকসানে পড়েছেন চাষিরা। কোনো কোনো স্থানে ধানের বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার আগেই পচে যাচ্ছে। কৃষকরা জানান, বীজতলা রক্ষায় বিভিন্ন প্রকার ছত্রাকনাশক ছিটিয়েও ফল পাচ্ছেন না। এমনকি প্রতিদিন কুয়াশার পানি আলাদা করেও রক্ষা হচ্ছে না বীজতলা। দুর্গাপুর ইউনিয়নের বোরো চাষি মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, অতিরিক্ত কুয়াশা ও শীতের কারণে তাদের বেশিরভাগ বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আর সময় নেই পুনরায় বীজতলা করে আবাদ করার। উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার বেশি কুয়াশা পড়ছে। শীতের তীব্রতাও অনেক বেশি। ৬ শতক জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করেছি। বেশিরভাগ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কী করবো বুঝতেছিনা। মীরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, বোরো বীজতলা শীত ও কুয়াশায় ক্ষতির সম্মুখীন হলে সেচ দিয়ে সারাদিন ভিজিয়ে রেখে সন্ধ্যায় পানি ছেড়ে দিতে হবে। এতে বীজতলা ক্ষতির মুখে পড়বে না। তিনি আরও বলেন, কুয়াশা কমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এছাড়া শুকনো স্থানে বীজতলা করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি।