মীরসরাইয়ে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

২ মার্চ, ২০২৪ | ৩:১৪ অপরাহ্ণ
রিপোর্ট

মীরসরাইয়ে ডায়রিয়া-নিউমোনিয়া, হাঁপানিসহ নানান রোগের প্রকোপ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। প্রতিদিন মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ব্যাপকহারে রোগী ভর্তি হচ্ছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগই শিশু। সাত দিনে ৭০টি শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বেড সঙ্কটে অন্য ওয়ার্ডে নিয়েও চিকিৎসা দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসকরা। মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, চলতি মাসের ২০ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত সাত দিনে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮৫ জন ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭০ জনই শিশু। বাকি ১৫ জন নারী ও পুরুষ। এ ছাড়া সর্দি-জ¦রের রোগী ছিল ১২ জন, যার মধ্যে ছয়জনই শিশু। নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট রোগীর সংখ্যা ২২ জন, তাদের মধ্যে সাতজনই শিশু। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কাটাবিল এলাকার নাছিমা আক্তার জানান, আমার ছেলে আট মাস বয়সী আদিয়ান তিনদিন ধরে ডায়রিয়ায় ভুগছে। বাড়িতে চিকিৎসা করিয়েছি কিন্তু সুস্থ না হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখন আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও বারইয়ারহাট শেফা ইনসান হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা: এসএ ফারুক জানান, আবহওয়া পরিবর্তনজনিত কারণে শিশুরা ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ হাসপাতালে প্রতিদিন নতুন রোগী আসছে। বেশি জটিল হলে তাদেরতে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। শিশুদের সম্পর্কে বাবা-মাকে বেশি সচেতন থাকতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ) ডা: সুমন ঘোষ বলেন, ঋতু পরিবর্তন এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় বাতাসে রোগজীবাণু বেড়ে গেছে। তাই সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টও হচ্ছে বেশি। এ ছাড়া দূষিত পানির ব্যবহার, খাবার গ্রহণে পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং নিয়মিত হ্যান্ডওয়াস ব্যবহার না করার কারণে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. মিনহাজ উদ্দিন রানা বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে শিশুদের ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বর, বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা দিন-রাত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। স্যালাইন, অ্যান্টিবায়োটিকসহ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে বলে তিনি জানান।