মীরসরাই উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে জনবল সংকট। নিয়ম অনুযায়ী একজন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) এবং ৯টি ক্লাস্টারের জন্য ৯ জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) থাকার কথা।
বাস্তবে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী এবং ১৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন কর্মকর্তা।
উপজেলায় রয়েছে ১৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৫টি প্রাথমিক কিন্ডারগার্টেন, দুটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ছয়টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা।
সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী রয়েছে ২৫ হাজার ৯১১ জন। কিন্ডারগার্টেনে প্রায় ৭ হাজার এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় আরও প্রায় ৫০০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৩৫০ জন।
এত বড় শিক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রম তদারকি, বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষকদের পেশাগত সহায়তা, পাঠদানের মান মূল্যায়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ১০ জন কর্মকর্তার পরিবর্তে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন। যার কারণে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষার মান মূল্যায়ন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা জানান, একসময় প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ, অভিভাবক সমাবেশ এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিত অনুষ্ঠিত হতো। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করতেন। পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতেন। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে বর্তমানে হাতেগোনা কয়েকটি বিদ্যালয়ে তদারকি সম্ভব হলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ই নিয়মিত নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাসান মুরাদ চৌধুরী বলেন, ১০ জন কর্মকর্তার কাজ একজনের পক্ষে করা অত্যন্ত কঠিন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে দ্রুত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও কয়েকজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মদ বলেন, দীর্ঘদিন নিয়োগ ও পদোন্নতি না হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। নতুন নিয়োগ হয়েছে। তিনি খুব দ্রুত সময়ে মীরসরাই প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে যোগদান করবেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে সদ্য নিয়োগ পেয়েছেন হাটহাজারী উপজেলার বর্তমান প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তিনি এখনও মীরসরাই উপজেলায় যোগদান করেননি। তিনি বলেন, আমার অর্ডার হয়েছে। আমি এখনও হাটহাজারীতে। এখানে কাজ গুছিয়ে দিয়ে রোববার কিংবা সোমবার যোগদান করবো। আমার আগে যিনি ছিলেন তিনি দুই সপ্তাহ আগে অবসরে গেছেন। যার কারণে মীরসরাইয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পদটি শূন্য রয়েছে। সেখানে একজন সহকারী শিক্ষা অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হলে মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। আর সেজন্য প্রয়োজন শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করে শিক্ষা প্রশাসনকে সচল করা।










