গরমের তাপ কি পেট বুঝবে ‘দিবস’ বুঝে না
রিপোর্ট
ঈদুল ফিতরের পর থেকেই বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মীরসরাইয়ের শ্রমিকরা। কষ্ট করে ফসল ঘরে তুলছেন তারা। কেউ কেউ প্রচণ্ড তাপে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কাজে যেতে পারছেন না অনেকেই। তার ওপর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। শ্রমিকদের অভিযোগ এমন অবস্থায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের। তীব্র গরমেও ফসলি জমির ধান তুলছেন ঘরে।
বুধবার (০১ মে) কথা হয় ফসলি জমিতে কাজ করা শ্রমিকদের সাথে। তারা জানায় গরমের তাপ কি পেট বুঝি। দিবস সম্পর্কে ধারনা নেই। কাজ না করলে ঘরে খাবার নিয়ে যাবো কি করে। পরিবারের সবাইতো না খেয়ে মারা যাবে।
আজ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের এ দিন। এই দিবস সম্পর্কেও জানে না মিরসরাইয়ের অনেক শ্রমিকরা। পেটে ক্ষুধা নিয়ে তা জানার প্রয়োজনও মনে করছে না তারা।
সদর ইউনিয়নের জাফরাবাদ গ্রামের হকসাব হোসেন জানান, মে দিবস আবার কি? সারাবছরই সকাল থেকে সন্ধ্যা আমাদের কাজ করতে হয়। দিবস দিয়ে তো আর পেটে ভাত জুটবে না। আমাদের কাজ আর কেউ করে দিবে না। কাজ না করলে টাকা দিবে না। এসব দিবস আসে যায়, কিন্তু আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না।
খৈইয়াছরা ইউনিনের আবুল হোসেন জানান, কাজ বন্ধ রাখলে খাবো কি। বাজারে দাম প্রতিদিন বাড়ে। পরিবার নিয়ে বাঁচতেও কষ্ট হবে। সবমিলিয়ে দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়েছেন তারা।
তীব্র তাপপ্রবাহ কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শ্রমিক নুর হোসেন। তিনি জানান, ৪দিন অসুস্থ ঘরে কর রকুম খেয়ে দিনযাপন করতেছি। কেউ খবর নেয় না। কিছু টাকা ছিলো তা দিয়ে ঔষধ নিয়ে পেলছি। এখন ঘরে চাল কিনার টাকা নেই। শ্রমিক দিবস দিয়ে কি হবে। শ্রমিকদের কন মূল্য নেই।
প্রসঙ্গত, ১৮৮৬ সালের এ দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম ও ৮ ঘণ্টা বিনোদনের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন। সে আন্দোলনে শ্রমিকরা জীবনও উৎসর্গ করেছিলেন। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এই দিনকে তখন থেকেই সারা বিশ্বে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়: ‘শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’
